চুপচাপ হেটে চলেছে তানভীর আর নাবিলা। তানভীরের স্যান্ডেল ছিড়ে গেছে। ছেড়া স্যান্ডেল পায়ে দিয়েই সে হাটছে।
ছেড়া স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে হাটার কারনে অদ্ভুত একটা শব্দ হচ্ছে। শব্দের ব্যাপারটা নিয়ে নাবিলা খুব বিরক্ত। বার বার
অগ্নিদৃষ্টিতে তাকাচ্ছে তানভীরের দিকে।
-সমস্য কী তোমার?
=কী??
-অভদ্রের মত শব্দ করে হাটছো কেন?
=ইচ্ছা করে করছি নাকি? ছেড়া স্যান্ডেলে এমন
শব্দ হয়।
-ফকির কোথাকার। স্যান্ডেল সেলাই করাও।
আমার অসহ্য লাগছে।
=ক্ষতি কী? প্রতিটা শব্দই হচ্ছে মিউজিক।
মিউজিকের তালে তালে আমরা হাটছি!
-আশ্চর্য! লজ্জা লাগেনা এসব বলতে? এই
মুহুর্তে স্যান্ডেল সেলাই করাবা তুমি।
নাইলে আমি বাসায় চলে যাবো।
মেয়েদের এই অস্ত্রটাকে পুরুষজাতি খুব ভয় পায়।
কথায় কথায় চলে যাওয়ার হুমকি।
তানভীর বাধ্য হয়ে এদিক
তাকিয়ে মুচি খুঁজতে লাগলো। পাওয়া গেল
একজনকে।
জুতা স্যান্ডেলের ডাক্তার সাহেব বেশ কিছুক্ষন
ধরে তানভীরের ছেড়া স্যান্ডেলটা পর্যবেক্ষন
করলো। তারপর বললো, "এই জিনিস সিলাই
করা যাইবে না।"
-কেন?
=সিলাই করতি করতি তো আর
কুনো জায়গা বাকি নাই। ইডা ফালাই দ্যান। এই
স্যান্ডেল আর চলবো না।
-আরে কি বলেন! সবাই তো ঠিকই সেলাই
করে দেয়। আপনি করেন।
=সিলাই করলি আবারো ছিড়ে যাবে।
-ছিড়ুক। সেলাই করেন
=করলি তো আমার লাভ। করছি তাইলে...
সেলাই বেশিক্ষন টিকলো না। অদ্ভুত
শব্দটা আবারও শুরু হয়ে গেল। তানভীর
অসহায়ভাবে নাবিলার দিকে তাকালো।
নাবিলার চোখে আগুন। পারলে এখনই
খেয়ে ফেলবে তানভীরকে। বললো, "এই
স্যান্ডেল কবে কিনছো?"
তানভীর মাথা চুলকে জবাব দিলো, "চার বছর
আগে"
-বাহ! কি চমতকার। আগে জানলে তোমার মত
ফকিরের সাথে প্রেম করতাম না।
=কি বলো এসব!
-তাই বলে কেউ একি স্যান্ডেল চার বছর
ধরে পরে?
=একি গার্লফ্রেন্ড পাঁচ বছর ধরে আছে!
তাইলে একি স্যান্ডেল চার বছর
থাকলে সমস্যা কী?
তানভীরের জোকটা নাবিলা বোধহয়
ধরতে পারেনি। অবাক
হয়ে তাকিয়ে থাকলো তানভীরের দিকে।
-কি বললা তুমি? আমি আর স্যান্ডেল সমান?
আমাকে আর তোমার ভালো লাগে না,
বুঝছি আমি...
তানভীর বুঝলো, বিপদে পড়ে গেছে। মেয়েদের
এই এক সমস্যা। নারীত্ব, প্রেম আর বিয়ে- এই তিন
বিষয়ে রসিকতা মেয়েরা সহ্য করতে পারে না।
তানভীর সামাল দেয়ার চেষ্টা করলো,
"স্যান্ডেল আমার পা আগলে রাখে। তাই না?
তুমি হচ্ছো আমার হৃদয়ের স্যান্ডেল! কারন
তুমি আমার হৃদয় আগলে রাখো!"
তানভীরের তাত্ত্বিক কথাবার্তা শুনে একটু
হালকা হলো নাবিলা। ঠোঁটের
কোণে ভেসে উঠলো হাসি। নাবিলা বললো,
"ভালোই তো কথা শিখছো। চলো স্যান্ডেল
কিনে দিবো তোমাকে।"
স্যান্ডেলের দোকানের খোঁজে হাটতে শুরু
করলো দুজন। অদ্ভুত শব্দটা এখনো হচ্ছে। এই প্রথম
নাবিলা মনোযোগ দিয়ে শব্দটা শোনার
চেষ্টা করলো। শব্দটা শুনতে খুব একটা খারাপ
লাগছে না...,
গল্প : সংগৃহীত

No comments:
Post a Comment