যা আশা করছিলাম তাই ঘটছে ৷
সিড়িতে হনহন করে এগিয়ে আসছে সে ৷ চেহারায় পরিচিত কঠিন ভঙ্গি ৷ নাকের ডগায় ঝুলে পড়া চশমাটা সে ঠিক করে বলল, "কাজটা আপনি কেন করলেন?"
আমি পুরোপুরি অবাক হয়ে বললাম - মানে??
মেয়েটা ঠাট্টার সুরে বলল - মানে কি আপনি ভালো করেই জানেন, বুজরুকি ৷ আমি আরেকটু অবাক হলাম - কি বলছ এসব! কিছুই বুঝি না তো ৷
মেয়েটার চোখেমুখে বিরক্তি ফুটে উঠল ৷ হাতের মুঠোয় ওড়নার দু'প্রান্ত চেপে ধরে চোখদুটো তীব্র ভাবে বন্ধ করল সে ৷ খুব রেগে গেলে মেয়েটি এমন করে, আর দুর্ভাগ্যবশত আমাকে এই দৃশ্য প্রায়ই দেখতে হয় ৷
-Stupid কোথাকার! !!
বলেই যেভাবে এসেছিল সেভাবেই চলে গেল সে ৷
সিড়িতে হনহন করে এগিয়ে আসছে সে ৷ চেহারায় পরিচিত কঠিন ভঙ্গি ৷ নাকের ডগায় ঝুলে পড়া চশমাটা সে ঠিক করে বলল, "কাজটা আপনি কেন করলেন?"
আমি পুরোপুরি অবাক হয়ে বললাম - মানে??
মেয়েটা ঠাট্টার সুরে বলল - মানে কি আপনি ভালো করেই জানেন, বুজরুকি ৷ আমি আরেকটু অবাক হলাম - কি বলছ এসব! কিছুই বুঝি না তো ৷
মেয়েটার চোখেমুখে বিরক্তি ফুটে উঠল ৷ হাতের মুঠোয় ওড়নার দু'প্রান্ত চেপে ধরে চোখদুটো তীব্র ভাবে বন্ধ করল সে ৷ খুব রেগে গেলে মেয়েটি এমন করে, আর দুর্ভাগ্যবশত আমাকে এই দৃশ্য প্রায়ই দেখতে হয় ৷
-Stupid কোথাকার! !!
বলেই যেভাবে এসেছিল সেভাবেই চলে গেল সে ৷
আমাদের বাড়িওয়ালার মেয়ে ৷ রিনি ৷ এবার 11 এ ৷ বইয়ের সামনে বসে থাকার কোন Competition থাকলে মেয়েটা নিশ্চিতভাবে মেয়েটা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে 1st হত ৷ যে কারনেই হোক প্রথমদিন থেকেই সে আমাকে সহ্য করতে পারেনা ৷ বাড়িতে কোনো অঘটন ঘটলেই মেয়েটার সবার আগে সন্দেহ পরে আমার ওপর ৷ এমনভাবে তাকায় যেন আমিই অপরাধী ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুবাদে সবাই আমায় আদরের চোখে দেখলেও এই ব্যতিক্রমী কিশোরীর কাছে আমি বাদর
ওর সাথে প্রথম দেখাটাই হয়েছিল অন্যরকমভাবে ৷
SSC শেষে ক্যাডেটরা তিনমাসের এক লম্বা ছুটি ৷ ছুটির প্রথম কয়েকটা দিন মামাবাড়ি কাটিয়ে যেদিন বাসায় ফিরলাম, অঝোরে বৃষ্টি নেমেছিল সেদিন ৷ বৃষ্টি আমার খুব প্রিয় ৷ আমি কলেজে ছিলাম যখন, তখনই বাসা চেন্জ করেছিল মা ৷ নতুন বাসা দেখে খুশি হলাম, ছাদ আছে ৷ আগের বাসায় ছিলনা ৷ এবার মনের সুখে বৃষ্টিতে ভেজা যাবে:D
বাসায় ঢুকে ব্যাগ ছুড়ে ফেলেই দৌড় দিলাম ছাদে ৷
সাজানো গোছানো পরিপাটি ছবির মতো একটা ছাদ ৷ এককোণে টুকরো ফুলের বাগান ৷ শ্রাবনের বর্ষাধারার গুন্জনের মাঝে হঠাৎ কান্নার শব্দ পেলাম ৷ খেয়ালই করিনি ৷ ছাদে আরেকজন ছিল ৷ অপরপ্রান্তে দাড়িয়ে রেলিং ধরে ৷ দুর্নিবার আকর্ষনে এগিয়ে গেলাম ৷ উপস্থিতি টের পেয়ে পিছু ফিরল সে ৷ মেঘমালার অকৃপণ উপহারের মাঝে মেয়েটাকে দেখে নাড়া দিয়ে উঠল ভেতরটা ৷ কপোলের ময়দানে কয়েকটা চুলের পদচারনায় এলোমেলো ছিপছিপে গড়নের ক্রন্দনরত দেবীকে দেখতে দেখতে শ্রাবনধারায় আমার শৈশব ধুয়ে যেতে লাগল, কৈশোরের চনমনে ছোঁয়া পেল মন ৷
এত্ত সুন্দর! !!!!
Photo
SSC শেষে ক্যাডেটরা তিনমাসের এক লম্বা ছুটি ৷ ছুটির প্রথম কয়েকটা দিন মামাবাড়ি কাটিয়ে যেদিন বাসায় ফিরলাম, অঝোরে বৃষ্টি নেমেছিল সেদিন ৷ বৃষ্টি আমার খুব প্রিয় ৷ আমি কলেজে ছিলাম যখন, তখনই বাসা চেন্জ করেছিল মা ৷ নতুন বাসা দেখে খুশি হলাম, ছাদ আছে ৷ আগের বাসায় ছিলনা ৷ এবার মনের সুখে বৃষ্টিতে ভেজা যাবে:D
বাসায় ঢুকে ব্যাগ ছুড়ে ফেলেই দৌড় দিলাম ছাদে ৷
সাজানো গোছানো পরিপাটি ছবির মতো একটা ছাদ ৷ এককোণে টুকরো ফুলের বাগান ৷ শ্রাবনের বর্ষাধারার গুন্জনের মাঝে হঠাৎ কান্নার শব্দ পেলাম ৷ খেয়ালই করিনি ৷ ছাদে আরেকজন ছিল ৷ অপরপ্রান্তে দাড়িয়ে রেলিং ধরে ৷ দুর্নিবার আকর্ষনে এগিয়ে গেলাম ৷ উপস্থিতি টের পেয়ে পিছু ফিরল সে ৷ মেঘমালার অকৃপণ উপহারের মাঝে মেয়েটাকে দেখে নাড়া দিয়ে উঠল ভেতরটা ৷ কপোলের ময়দানে কয়েকটা চুলের পদচারনায় এলোমেলো ছিপছিপে গড়নের ক্রন্দনরত দেবীকে দেখতে দেখতে শ্রাবনধারায় আমার শৈশব ধুয়ে যেতে লাগল, কৈশোরের চনমনে ছোঁয়া পেল মন ৷
এত্ত সুন্দর! !!!!
Photo
শুভ্র অমল গাল অশ্রুর আগমনে ইষৎ রক্তিম, গভীর কালো চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পরিপূর্ণতা পেয়েছে জগতের সবটুকু সৌন্দর্য ৷ রূপের ছোঁয়া মিশে আছে তার পেখমখেলানো অঙ্গে ৷ চশমাঢাকা অশ্রুরক্তিম চোখের গহীনে কতক্ষণ ডুবে ছিলাম জানি না, তবে এটুকু জানি বৃষ্টিবালিকার বিস্ময়ভরা মিষ্টি কন্ঠের আহবানে সম্বিত না ফিরলে আজীবন সেই চোখের মায়ায় ডুবে থাকতে পারতাম ৷
সে বলল, "আপনি???"
বললাম আমার কথা ৷ "ও" বলে দ্রুত চোখ মুছতে লাগল সে ৷ হেসে ফেললাম ৷ বোকা মেয়ে ৷
-হাসছেন কেন???
প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি হাস্যরত আমি ৷ রেগে কিংবা অভিমানে উল্টোমুখে চলে গেল রিনি, ভাসিয়ে গেল আমায় তার রূপসাগরে ৷ সেই প্রথম দেখায় ওর মনটাকে আরাধ্য গন্তব্যে বানিয়েছিলাম, আজও নিরবে সেই আরাধনায় ব্যস্ত আমি ৷ আর চোখের নিমিষে আমার মন দখল করে বসা মেয়েটা আমার নিষ্পাপ ভালোবাসার বদলে উপহার দেয় তার জন্মলগ্ন থেকে আমার জন্য জমিয়ে রাখা দুর্ব্যবহার ৷
কলেজের বিশাল বিশাল টার্মের প্রাত্যহিক ব্যস্ত অমানুষিক জীবনের মাঝে রিনি আমার জন্য এনে দিল নতুন রঙিন জগৎ ৷ দেয়াল পত্রিকা,সাময়িকী তে মেয়েটাকে নিয়ে কিছু লেখালিখি করতাম ৷ সপ্নকন্যাকে সরাসরি কিছু তো বলতে পারিনা, তাই অবুঝ কাগজের বুকে কলমের গলা চেপেই মনের কথা অজানা শূন্যতার কাছে ব্যক্ত করতাম ৷ কলেজে মনে হত কবে আবার ওকে দেখব ৷ কিন্তু বাসায় এসে ওর থেকে পালিয়ে থাকতাম ৷ভালবাসার মানুষটির কাছে দুর্ব্যবহার পেতে কার ভালো লাগে? ?
আমার কল্পনায় রিনির মিষ্টি বিচরণ বাস্তবের রিনির তিক্ত উপস্থিতি তে অনেকটাই থমকে যেত ৷ বুঝিনা কেন মেয়েটা আমায় এত অপছন্দ করত ৷ তবুও আশা বুকে নিয়ে কলেজের টার্মগুলো পার করতাম ৷
কিন্তু একদিন রিনি আমার সাথে অযথা খুব খারাপ ব্যবহার করলে আমার ধৈর্যের বাধ গেল ভেঙে ৷ লাগবেনা আমার সেই অহংকারিনীর ভালবাসা ৷ মন থেকে মুছে ফেলতে চাইলাম চাঁদের আলোয় নির্ঘুম রাতের স্বপ্নগুলো ৷
সে বলল, "আপনি???"
বললাম আমার কথা ৷ "ও" বলে দ্রুত চোখ মুছতে লাগল সে ৷ হেসে ফেললাম ৷ বোকা মেয়ে ৷
-হাসছেন কেন???
প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি হাস্যরত আমি ৷ রেগে কিংবা অভিমানে উল্টোমুখে চলে গেল রিনি, ভাসিয়ে গেল আমায় তার রূপসাগরে ৷ সেই প্রথম দেখায় ওর মনটাকে আরাধ্য গন্তব্যে বানিয়েছিলাম, আজও নিরবে সেই আরাধনায় ব্যস্ত আমি ৷ আর চোখের নিমিষে আমার মন দখল করে বসা মেয়েটা আমার নিষ্পাপ ভালোবাসার বদলে উপহার দেয় তার জন্মলগ্ন থেকে আমার জন্য জমিয়ে রাখা দুর্ব্যবহার ৷
কলেজের বিশাল বিশাল টার্মের প্রাত্যহিক ব্যস্ত অমানুষিক জীবনের মাঝে রিনি আমার জন্য এনে দিল নতুন রঙিন জগৎ ৷ দেয়াল পত্রিকা,সাময়িকী তে মেয়েটাকে নিয়ে কিছু লেখালিখি করতাম ৷ সপ্নকন্যাকে সরাসরি কিছু তো বলতে পারিনা, তাই অবুঝ কাগজের বুকে কলমের গলা চেপেই মনের কথা অজানা শূন্যতার কাছে ব্যক্ত করতাম ৷ কলেজে মনে হত কবে আবার ওকে দেখব ৷ কিন্তু বাসায় এসে ওর থেকে পালিয়ে থাকতাম ৷ভালবাসার মানুষটির কাছে দুর্ব্যবহার পেতে কার ভালো লাগে? ?
আমার কল্পনায় রিনির মিষ্টি বিচরণ বাস্তবের রিনির তিক্ত উপস্থিতি তে অনেকটাই থমকে যেত ৷ বুঝিনা কেন মেয়েটা আমায় এত অপছন্দ করত ৷ তবুও আশা বুকে নিয়ে কলেজের টার্মগুলো পার করতাম ৷
কিন্তু একদিন রিনি আমার সাথে অযথা খুব খারাপ ব্যবহার করলে আমার ধৈর্যের বাধ গেল ভেঙে ৷ লাগবেনা আমার সেই অহংকারিনীর ভালবাসা ৷ মন থেকে মুছে ফেলতে চাইলাম চাঁদের আলোয় নির্ঘুম রাতের স্বপ্নগুলো ৷
HSC শেষে আবার বাসায় ৷ University, BMA, BUET ভর্তি নিয়ে ব্যস্ত আমিযথাসম্ভব এড়িয়ে চলি রিনিকে ৷ একাকী জীবনের সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছি ৷ আগে যেটুকু feelings কাজ করত তাও আর করে না ৷
হঠাত্ একদিন .........
রিনির কল ৷ ভয়ার্ত কন্ঠে সে বলল "একটু কলেজে আসুন "
আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই কেটে গেল ফোন ৷ আমি বাধ্য ছেলের মতো চলে গেলাম ৷ এত দিনে প্রেয়সীর জন্য কিছু করার সুযোগ পেলাম ৷
কলেজে পৌছে দেখি মহারাণী ওড়না দিয়ে চশমা মুছছেন ৷ আমাকে দেখে বলল, - একটা রিকশা ঠিক করে দিন ৷
আমি ডাকার কারন জিজ্ঞাসা করলাম, তার উত্তর - এত প্যাক প্যাক করেন ক্যান, সব দেখবেন একটু পর "
আমি রিকশা ঠিক করলাম ৷ সে উঠে বসে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "হ্যাবলার মতো দাড়িয়ে আছেন ক্যান, যান আরেকটা রিকশা নিয়ে আমাকে ফলো করেন ৷ " আরেকটা রিকশা নিলাম ৷ মাইয়া এমন ক্যান ৷ কেন ডাকছে তাও বলেনা আবার এত চোটপাট! !!
কোথায় রিনির পাশে বসে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন, এখন একা একা রিকশাআলার ঘামের গন্ধ সাথে নিয়ে যাচ্ছি ৷ মাঝেমধ্যে পশ্চাৎদেশে র উপহার ও পাচ্ছি ৷
যাইহোক এক চিপাগলিতে এসেই কাহিনী বুঝলাম ৷ কয়েকটা গুন্ডাটাইপ ছেলে দাড়িয়ে ৷মিস রিনি হয়ত এই ভয়েই আমার স্মরণাপন্ন হয়েছেন ৷ কিন্তু ম্যাডাম তো বড্ড ভুল করে ফেলেছে ৷ এই ষন্ডামার্কা পোলাপানের সাথে আমি তাল পাতার সেপাই কি বা করতে পারব??
২/,১ টা চড় থাপ্পড় খেয়ে রিকশাওয়ালা মামা পগাড়পার ৷ দূরে দাড়িয়ে আমি ৷ রিনি আমার দিকে তাকালে কেবলা মার্কা হাসি উপহার দিলাম রিনি বিড়বিড় করল, হয়ত আক্ষেপ করছে ৷
ছেলেদের একজন রিনির দিকে হাত বাড়ালেন আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না ৷ দোয়াদরূদ পড়তে পড়তে দু চার ডজন কিলঘুষি খাওয়ার জন্য নিজেকে রেডী করে এগিয়ে গেলাম ৷ গল্পে may b ঠিকই লেখে,প্রেমে পড়লে বিড়ালও বাঘ হয়ে যায় ৷
তো আমাকে দেখে একজন বলল, hello brother...এইখানে কি কাজ? ফুটেন
তখন ফুটে যাওয়াই ঠিক ছিল, কিন্তু হাজারহোক মনের মানুষ কে ফেলে এভাবে চম্পট দেয়া যায়না ৷ কিন্তু একা আমি করবটা কি?? অনন্ত জলিলরে খুব মিস করলাম তখন
ঠিক তখনই এল call টা, আর সাথে বুদ্ধিটাও ৷ কল ধরেই এক নিঃশ্বাসে বলতে শুরু করলাম,"হ্যালো,,, শরীফ, দোস্ত, হ্যা হ্যা আমি, তুই কোথায়? হ হ শান্তিনগর মোড়ে একটু আয় তো ৷ আরে কয়েকটা পুঁচকে পোলাপান ঝামেলা করতাছে ৷ তুই কাছেই আছস?? আয় তাইলে............" এরমাঝেই বীরের দল পাংশু মুখে উধাও নিজের সফলতায় নিজেই অবাক, রিনিতো হতভম্ব ৷
চলুন যাই - বলে হাটতে লাগলাম ৷ ও মাথা নিচু করে কিছু একটা ভাবতে ভাবতে এগিয়ে এল ও ৷ হঠাত্ প্রশ্ন - শরীফটা কে? গুন্ডা
-হমম,মনে হয়
-ঐ গুন্ডার সাথে যেভাবে কথা বললেন মনে হল আপনার friend....
হেসে ফেললাম আমি ৷ ও রেগে গেল আরও বেশি ৷
- ছিঃ, আপনার লজ্জা নাই, oh sorry লজ্জা থাকবে কেন,আপনি তো গুন্ডার friend, আপনার পাশে হাটতেও ঘেন্না হচ্ছে ৷ আপনি ........."
পাশাপাশি হাটছি দুজন,কোথায় রোমান্টিসিজম এ ভাসব, আর আমারে উড়তে হচ্ছে তার কথার ঠেলায় ৷ হায়রে ভাগ্য আমার ৷ ভাগ্যিস বাসার কাছাকাছি চলে এসেছিলাম, নইলে আরও কতক্ষন যে রিনি জ্বলন্ত বাক্যবাণে আহত হত এ ভগ্নহৃদয়, কে জানে ৷
রিনির কল ৷ ভয়ার্ত কন্ঠে সে বলল "একটু কলেজে আসুন "
আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই কেটে গেল ফোন ৷ আমি বাধ্য ছেলের মতো চলে গেলাম ৷ এত দিনে প্রেয়সীর জন্য কিছু করার সুযোগ পেলাম ৷
কলেজে পৌছে দেখি মহারাণী ওড়না দিয়ে চশমা মুছছেন ৷ আমাকে দেখে বলল, - একটা রিকশা ঠিক করে দিন ৷
আমি ডাকার কারন জিজ্ঞাসা করলাম, তার উত্তর - এত প্যাক প্যাক করেন ক্যান, সব দেখবেন একটু পর "
আমি রিকশা ঠিক করলাম ৷ সে উঠে বসে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "হ্যাবলার মতো দাড়িয়ে আছেন ক্যান, যান আরেকটা রিকশা নিয়ে আমাকে ফলো করেন ৷ " আরেকটা রিকশা নিলাম ৷ মাইয়া এমন ক্যান ৷ কেন ডাকছে তাও বলেনা আবার এত চোটপাট! !!
কোথায় রিনির পাশে বসে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন, এখন একা একা রিকশাআলার ঘামের গন্ধ সাথে নিয়ে যাচ্ছি ৷ মাঝেমধ্যে পশ্চাৎদেশে র উপহার ও পাচ্ছি ৷
যাইহোক এক চিপাগলিতে এসেই কাহিনী বুঝলাম ৷ কয়েকটা গুন্ডাটাইপ ছেলে দাড়িয়ে ৷মিস রিনি হয়ত এই ভয়েই আমার স্মরণাপন্ন হয়েছেন ৷ কিন্তু ম্যাডাম তো বড্ড ভুল করে ফেলেছে ৷ এই ষন্ডামার্কা পোলাপানের সাথে আমি তাল পাতার সেপাই কি বা করতে পারব??
২/,১ টা চড় থাপ্পড় খেয়ে রিকশাওয়ালা মামা পগাড়পার ৷ দূরে দাড়িয়ে আমি ৷ রিনি আমার দিকে তাকালে কেবলা মার্কা হাসি উপহার দিলাম রিনি বিড়বিড় করল, হয়ত আক্ষেপ করছে ৷
ছেলেদের একজন রিনির দিকে হাত বাড়ালেন আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না ৷ দোয়াদরূদ পড়তে পড়তে দু চার ডজন কিলঘুষি খাওয়ার জন্য নিজেকে রেডী করে এগিয়ে গেলাম ৷ গল্পে may b ঠিকই লেখে,প্রেমে পড়লে বিড়ালও বাঘ হয়ে যায় ৷
তো আমাকে দেখে একজন বলল, hello brother...এইখানে কি কাজ? ফুটেন
তখন ফুটে যাওয়াই ঠিক ছিল, কিন্তু হাজারহোক মনের মানুষ কে ফেলে এভাবে চম্পট দেয়া যায়না ৷ কিন্তু একা আমি করবটা কি?? অনন্ত জলিলরে খুব মিস করলাম তখন
ঠিক তখনই এল call টা, আর সাথে বুদ্ধিটাও ৷ কল ধরেই এক নিঃশ্বাসে বলতে শুরু করলাম,"হ্যালো,,, শরীফ, দোস্ত, হ্যা হ্যা আমি, তুই কোথায়? হ হ শান্তিনগর মোড়ে একটু আয় তো ৷ আরে কয়েকটা পুঁচকে পোলাপান ঝামেলা করতাছে ৷ তুই কাছেই আছস?? আয় তাইলে............" এরমাঝেই বীরের দল পাংশু মুখে উধাও নিজের সফলতায় নিজেই অবাক, রিনিতো হতভম্ব ৷
চলুন যাই - বলে হাটতে লাগলাম ৷ ও মাথা নিচু করে কিছু একটা ভাবতে ভাবতে এগিয়ে এল ও ৷ হঠাত্ প্রশ্ন - শরীফটা কে? গুন্ডা
-হমম,মনে হয়
-ঐ গুন্ডার সাথে যেভাবে কথা বললেন মনে হল আপনার friend....
হেসে ফেললাম আমি ৷ ও রেগে গেল আরও বেশি ৷
- ছিঃ, আপনার লজ্জা নাই, oh sorry লজ্জা থাকবে কেন,আপনি তো গুন্ডার friend, আপনার পাশে হাটতেও ঘেন্না হচ্ছে ৷ আপনি ........."
পাশাপাশি হাটছি দুজন,কোথায় রোমান্টিসিজম এ ভাসব, আর আমারে উড়তে হচ্ছে তার কথার ঠেলায় ৷ হায়রে ভাগ্য আমার ৷ ভাগ্যিস বাসার কাছাকাছি চলে এসেছিলাম, নইলে আরও কতক্ষন যে রিনি জ্বলন্ত বাক্যবাণে আহত হত এ ভগ্নহৃদয়, কে জানে ৷
বাসার সামনে দুজনের মা দাড়িয়ে ৷ চোখেমুখে উৎকন্ঠা ৷ রুনিকে আমার পাশে দেখে আমার অতিসাবধানী মার কপালে চিন্তার রেখা আরও গভীর হল ৷
-তোর সমস্যা টা কি??
আমি হাসলাম ৷ আন্টির কাছে মায়ের অনুযোগ, "বলেন তো ভাবি, না বলে কোথায় চলে গেছে,ফোনে কি সব আবোল তাবোল বলে ৷ কি শরীফ টরীফ! !!! "
আমি মুচকি হাসছি আর রিনির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ছে ৷ বাসায় ঢুকে সিড়ির দিকে পা বাড়াতেই রিনির মার উচ্চস্বরে হাসি শুনতে পেলাম, "যাই বলেন ভাবি, আপনার ছেলের বুদ্ধি আছে " মাও হাসছে ৷ আমিও হাসছি, রিনির মুখখানি চিন্তা করে ৷
মা তখন কল না দিলে রিনি কে বাচানোর কোনো উপায়ই ছিল না ৷
-তোর সমস্যা টা কি??
আমি হাসলাম ৷ আন্টির কাছে মায়ের অনুযোগ, "বলেন তো ভাবি, না বলে কোথায় চলে গেছে,ফোনে কি সব আবোল তাবোল বলে ৷ কি শরীফ টরীফ! !!! "
আমি মুচকি হাসছি আর রিনির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ছে ৷ বাসায় ঢুকে সিড়ির দিকে পা বাড়াতেই রিনির মার উচ্চস্বরে হাসি শুনতে পেলাম, "যাই বলেন ভাবি, আপনার ছেলের বুদ্ধি আছে " মাও হাসছে ৷ আমিও হাসছি, রিনির মুখখানি চিন্তা করে ৷
মা তখন কল না দিলে রিনি কে বাচানোর কোনো উপায়ই ছিল না ৷
ছাদে গিয়ে দাড়াতেই মেঘ গুড়গুড় করে উঠল ৷ আজ খুব বৃষ্টি হবে হয়ত ৷ আমার লাগানো অর্কিডে চিলেকোঠা ছেয়ে গেছে ৷ আরেকবার কানের পোকা গুলো নাড়িয়ে দিয়ে আকাশটা কেদে উঠল ৷ emotion এ লাগল বিশাল ঢাক্কা ৷ ইসস যদি গান পারতাম ৷ অঝোর ধারার মাঝে সিক্ত আমি রিনির রিক্ত স্মৃতিগুলো নিয়ে ভাবছি ৷ পদশব্দ ৷ রিনি ৷ চোখে নেই চশমা ৷ সাধারণত যারা চশমা পড়ে, চশমাছাড়া তাদের বেমানান লাগে ৷ কিন্তু রিনিকে আরও সুন্দর লাগছে ৷ কপালে লেপ্টে থাকা দু একটা চুল, ইষৎ লাল চোখ,নাহ আর তাকিয়ে থাকতে পারলাম না ৷ ঠিক প্রথমদিনের মত অনুভূতি স্পর্শ করল আমাকে ৷ আমি নতুন করে ওর প্রেমে পরলাম, একবার নয় হাজারবার এই বৃষ্টিস্নাত দেবীর প্রেমে পড়া যায়৷ অন্যদিকে ফিরলাম ৷
-I'm sorry কাঁদো কাঁদো কন্ঠে রিনির অনুনয় ৷ আমি না ফেরাতে ও আবার বলল, " I'm really really sorry...sorry "
মেয়েরা মনে করে বারবার বিশেষনের ব্যবহার করলেই সাত খুন মাফ পাওয়া যায় ৷
ও বলেই চলেছে, "আমি না বুঝে আপনাকে ভুল বুঝে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি, আমি পরে অনেক কষ্ট পেয়েছি ৷ please forgive me "
স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হেসে ফেললাম ৷ ও অবাক হয়ে বলল "এত হাসেন কেন??? " রেলিং এ ভর দিয়ে দাড়িয়ে বললাম, "তুমি খুব বোকা " "কেন? "
আমি প্রথমদিনের সেই অবাধ্য হাসির কারনটা বললাম ৷ বৃষ্টিতে কান্না বোঝা যায় না, তবু রিনি চোখ মুছেছিল তাই হেসেছিলাম ৷ শুনে হেসে দিল রিনি ৷ হাসলেই মেয়েদের সবচেয়ে সুুন্দর লাগে হয়ত ৷ কান্নাভেজা চোখে স্নিগ্ধ হাসি,পৃথিবীর সবচেয়ে মায়াময় দৃশ্য ৷ দৃশ্যপট আরও মোহনীয় করতেই হয়ত বিজলি চমকাল ৷ বিধাতা এক ফ্লাসে একটি শ্রেষ্ঠ দৃশ্য ফ্রেমবন্দি করে রাখলেন হয়ত ৷ না, নাটক সিনেমার মত বিজলির ভয়ে জড়িয়ে ধরল না ৷ শুধু একটু কেপে উঠল ৷ আবার কাদছে ৷ মেয়েদের মনের ভাবগতিক বোঝা বড় দায় ৷ "আপনি এখনও বললেন না,আমাকে মাফ করেছেন তো ৷ " তখন কি যে হল জানিনা ৷ বেশি সাহসী হয়ে উঠলাম ৷ ওর চোখের জল মুখে বললাম, "আমি এতটা খারাপ না " এবার ও ভড়কে গেল কিছুটা ৷ সরে গেল কিছুটা ৷ যাহ, ভুল করে ফেললাম?
আবার উল্টো ঘুরে অনুশোচনায় মরছি ৷
"বৃষ্টি খুব ভালবাসেন, তাইনা?" কখন যে রিনি এত কাছে এসে দাড়িয়েছে টেরই পাইনি ৷ এত কাছ থেকে ওকে দেখে, ওর শরীরের উষ্ণতায় আরেকবার মতিভ্রম হল আমার ৷ সাহসিকতার চরম ছক্কা মেরে বললাম, ,"হম বৃষ্টি ভালবাসি, তবে তোমার চেয়ে বেশি নয় " ওর চোখ বড়বড় হয়ে গেল ৷ নিজের বোকামির জন্য নিজেকে দুষছি, তখন হাতে পেলাম কোমল স্পর্শ ৷ ইলেকট্রিক শক! !!
ও হেসে বলল," Stupid!! কোথাকার "
বৃষ্টিবালিকার চোখের মাঝে খুজে পেলাম আমার এতদিনের আরাধ্য গন্তব্য, আমার বৃষ্টিবিলাস ৷
-I'm sorry কাঁদো কাঁদো কন্ঠে রিনির অনুনয় ৷ আমি না ফেরাতে ও আবার বলল, " I'm really really sorry...sorry "
মেয়েরা মনে করে বারবার বিশেষনের ব্যবহার করলেই সাত খুন মাফ পাওয়া যায় ৷
ও বলেই চলেছে, "আমি না বুঝে আপনাকে ভুল বুঝে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি, আমি পরে অনেক কষ্ট পেয়েছি ৷ please forgive me "
স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হেসে ফেললাম ৷ ও অবাক হয়ে বলল "এত হাসেন কেন??? " রেলিং এ ভর দিয়ে দাড়িয়ে বললাম, "তুমি খুব বোকা " "কেন? "
আমি প্রথমদিনের সেই অবাধ্য হাসির কারনটা বললাম ৷ বৃষ্টিতে কান্না বোঝা যায় না, তবু রিনি চোখ মুছেছিল তাই হেসেছিলাম ৷ শুনে হেসে দিল রিনি ৷ হাসলেই মেয়েদের সবচেয়ে সুুন্দর লাগে হয়ত ৷ কান্নাভেজা চোখে স্নিগ্ধ হাসি,পৃথিবীর সবচেয়ে মায়াময় দৃশ্য ৷ দৃশ্যপট আরও মোহনীয় করতেই হয়ত বিজলি চমকাল ৷ বিধাতা এক ফ্লাসে একটি শ্রেষ্ঠ দৃশ্য ফ্রেমবন্দি করে রাখলেন হয়ত ৷ না, নাটক সিনেমার মত বিজলির ভয়ে জড়িয়ে ধরল না ৷ শুধু একটু কেপে উঠল ৷ আবার কাদছে ৷ মেয়েদের মনের ভাবগতিক বোঝা বড় দায় ৷ "আপনি এখনও বললেন না,আমাকে মাফ করেছেন তো ৷ " তখন কি যে হল জানিনা ৷ বেশি সাহসী হয়ে উঠলাম ৷ ওর চোখের জল মুখে বললাম, "আমি এতটা খারাপ না " এবার ও ভড়কে গেল কিছুটা ৷ সরে গেল কিছুটা ৷ যাহ, ভুল করে ফেললাম?
আবার উল্টো ঘুরে অনুশোচনায় মরছি ৷
"বৃষ্টি খুব ভালবাসেন, তাইনা?" কখন যে রিনি এত কাছে এসে দাড়িয়েছে টেরই পাইনি ৷ এত কাছ থেকে ওকে দেখে, ওর শরীরের উষ্ণতায় আরেকবার মতিভ্রম হল আমার ৷ সাহসিকতার চরম ছক্কা মেরে বললাম, ,"হম বৃষ্টি ভালবাসি, তবে তোমার চেয়ে বেশি নয় " ওর চোখ বড়বড় হয়ে গেল ৷ নিজের বোকামির জন্য নিজেকে দুষছি, তখন হাতে পেলাম কোমল স্পর্শ ৷ ইলেকট্রিক শক! !!
ও হেসে বলল," Stupid!! কোথাকার "
বৃষ্টিবালিকার চোখের মাঝে খুজে পেলাম আমার এতদিনের আরাধ্য গন্তব্য, আমার বৃষ্টিবিলাস ৷
--এস কে জীম

No comments:
Post a Comment